অনাবৃষ্টির জন্য পাট জাগ দেওয়ার বিড়ম্বনায় কৃষক

dewanganj news
পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক। ছবিঃ দেওয়ানগঞ্জ নিউজ

সারাদেশে এবার জমিতে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। জমি থেকে পাট কেটে নেওয়ার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। তারপরও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ কৃষক এখনও পাট কাটা শুরু করেননি। হাতেগোনা কয়েকজন কৃষক যারা শুরু করেছেন তারাও পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানি পাচ্ছেন না।

অনেক কৃষকের কাটা পাটগাছ ক্ষেতে পড়ে রয়েছে। প্রতিবার এসময়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বেড়ে নিচু এলাকা গুলো প্লাবিত হয়। ফলে খাঁল বিল,মজা পুকুর গুলো পানিতে পরিপূর্ণ থাকে।যা পাটের আঁশ ছাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। কিন্তু এবার বন্যা এবং আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় এবার দেওয়ানগঞ্জের নিচু এলাকাগুলো রয়েছে পানিশূন্য। এবং ভৌগলিক ভাবেই এই এলাকার মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি হওয়াই মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কম।যার ফলে পাট চাষি কৃষকেরা পড়েছে মহা বিড়ম্বনায়। ভুগর্ভস্থ পানি তুলে অথবা নদীতে নিয়ে পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে যাবে বলে চাষিরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।

- Advertisement -

দেওয়ানগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৫হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ৩০ হাজার কৃষক এবার পাট চাষ করেছ। উৎপাদন ধর্য্য করা হয়েছে হয়েছে ১১ হাজার মেট্রিক টন। পাট চাষে বাম্পার ফলন হয়ে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করলেও এখন পাট কাটা মৌসুমে পানির অভাবে পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। কৃষকরা পাট জাগ দেওয়ার পানি পাচ্ছেন না। অনেক কৃষকের ক্ষেতের আশেপাশে নিচু জমি থাকলেও তা রয়েছে পানিশূন্য।

উপজেলার ঝালুরচর গ্রামের কৃষক মজিদ উদ্দিন জানান, অনেক আগে থেকেই পাটের আবাদ করে আসছেন। কিন্তু এবারের মতো কখনোই পাট জাগ দেওয়ার জন্য এমন ঝামেলায় পড়তে হয়নাই। এবার তাদের এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার জায়গার ভীষণ সংকট। এ সময়ে পুকুরেও পানি নাই। অনেকে দূর থেকে পাট কেটে নদিতে নিয়ে যাচ্ছে জাগ দেওয়ার জন্য। এতে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। ফলে এবছর পাটের আবাদ করে তারা লোকসানের আশংকা করছেন। তিনি এ বছর দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। এ বছর পাট বেশ ভালো হয়েছে। উৎপাদনও ভালো।

তবে, পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় মাঠ থেকে দূরে নদীতে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দ্রুত না নিয়ে যাওয়ার জন্য। কাঠারবিল গ্রামের হুমায়ুন জানান, বৃষ্টি বেশি হলেও সমস্যা ছিল না। সময়টা এমন যে, ধান এবং পাটের জন্য পানি দরকার। এ সময়ে বৃষ্টি হলে কৃষকের উপকার হয়। সে অবস্থা এবার নেই।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামের কৃষক ইবাদত মিয়া জানান, দেওয়ানগঞ্জ অপেক্ষাকৃত নিচু উপজেলা হলেও এবার বন্যা হয় নাই। অতিবৃষ্টি হলে পাট জাগ দেওয়ার কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু এ বছর বৃষ্টি হয়েছে খুবই কম। মাঠ-ঘাটে কোথাও পানি নেই। এ অবস্থায় পাট কাটার সময় হলেও, পাট জাগ দেওয়ার অসুবিধার কথা ভেবে পাট কাটতে পারছেন না।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল্লাহ জানান, এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে পাট চাষ। মাঠে পাটের অবস্থাও ভালো। এখন পাট কাটার সময় চলছে। কিন্তু বৃষ্টি কিংবা বন্যা নেই। মাঠ-ঘাটেও পানি নেই। কৃষক অপেক্ষায় আছে, বৃষ্টি হলে তারা পাট কাটা শুরু করবে। তবে, কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচালে অল্প খরচে পাট পচানো সম্ভব। এ পদ্ধতিতে পাটের মানও ভালো হয়।

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -