অবশেষে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন সেই ভূমি কর্মকর্তা

dewanganj news
অবশেষে ঘুষের টাকা ফেরত দিচ্ছেন ভুমি সহকারী মো. আলাল উদ্দীন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মুজিব বর্ষের উপহারের ঘর দেওয়ার নামে ঘুষের টাকা অবশেষে ফেরত দিতে বাধ্য হলেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের হাতিভাঙ্গা ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দীন। গতকাল শনিবার (০৩) সেপ্টেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদের হস্ত্যক্ষপে এই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় অভিযোগকারীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে ঘুষের টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রæতিতে দিয়ে  অভিযুক্ত ওই ভূমি কর্মকর্তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আনেন। যার প্রেক্ষিতেই আজ তিনি নিজে উপস্থিতি থেকে ওই অভিযুক্ত কর্মকর্তার নেওয়া ঘুষের টাকা ৪০ জনের মাঝে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। টাকা ফেরত পেয়ে ভূক্তভোগীরা  কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

- Advertisement -

স্থানীয়দের ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দীন শুধু ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নেননি। তিনি অনেক মানুষের কাছে খারিজ করা ও ভুমিহীন বন্দোবস্তের কথা বলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ অবস্থায় সে অন্য অফিসে বদলী হয়ে গেলে সাধারণ মানুষদেরকে তার কাছে পাওনা টাকা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

ভূক্তভোগী মো. সোনাহার বলেন, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দীন আমাকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার কথা বলে। তার কথা অনুযায়ী আমি আমার ঘর তৈরীর সদ্য বানানো খাম বিক্রি করে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করি। সেই টাকা আমি ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দীনকে দিলে পরবর্তিতে শুনি আমি আর ঘর পামুনা। যার কারণেই আমরা ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ করি। আজ উএনও স্যারের সহায়তায় টাকা ফেরত পেয়েছি। আমি এই প্রতারণার বিচার চাই।

সরকারপাড়া গ্রামের আরেক ভূক্তভোগী অমিলা বলেন, আমি ভিক্ষে করে খাই। জমাজমি নেই। খাস জমিতে বসবাস করছি। আলাল আমার কাছে ঘর দেওয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। আমি টাকা ফিরিয়ে পেয়েছি। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দীন বলেন, আমার কাছে লোকজন যে টাকা পাবে সে টাকা আমি পাওনাদারদের ফেরত দিয়েছি। আরো যদি কেউ টাকা পেয়ে থাকেন তবে সে টাকাও আমি ফেরত দেবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, মো. আলাল উদ্দীন ৪০জন ভূক্তভোগীদের মাঝে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। তার কাছে আরো কেউ যদি টাকা পেয়ে থাকেন তবে সে টাকা তাকে শিগগির পরিশোধ করতে হবে। তার ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দীন ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার কথা বলে জন প্রতি ১০ হাজার থেকে ৩০ টাকা নেন। বুধবার তার অন্যত্র বদলীর খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা সন্ধ্যা থেকে ওই ভূমি অফিসের সামনে সারারাত বিক্ষোভ এবং গত বৃহস্পতিবার সারাদিন অবরোধ করে রাখেন। ওই ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অফিসেরই একটি রুমে আবাসিক থাকেন।

মো. আলাল উদ্দীন হাতিভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গত ৩ বছর থেকে ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। মুজিব শতবর্ষে ইতিমধ্যে ওই ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে ৪ টি ও ২য় পর্যায়ে ৩০ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বরাদ্দ ছিলো। ৩য় পর্যায়ে ওই ইউনিয়নে কোনো ঘর না থাকলেও মো. আলাল উদ্দীন স্থানীয় আমখাওয়া, সরকারপাড়াসহ অন্যান্য গ্রাম থেকে শতাধিক লোকের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ বাণিজ্য করেন। দীর্ঘ দিন যাবত ঘর দেই দিচ্ছি বলে সময় পাড় করলে এলাকাবাসীদের মধ্যে সন্দেহ কাজ করে। ইতিমধ্যে মো. আলাল উদ্দীনের অন্যত্র বদলীর মৌখিক সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। সে খবর এলাকাবাসাীদের মধ্যে জানাজানি হলে তারা টাকা ফেরতের জন্যে হাতিভাঙ্গা ভূমি অফিসে আসে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে একজন দুজন করে শতাধিক লোক অফিসে আসলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কৌশলে তাদের সরিয়ে অফিসের দরজা জানালা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। এদিকে বাইরে বিক্ষোভকারীরা ওই ভূমি অফিসারকে না পেয়ে সেই দিন সারারাত ও বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত অফিসের সামনে অবস্থান অবরোধ করেন। তাদের কথা তারা টাকা না নিয়ে বাড়ী ফিরবেন না।

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -