চলছে বিদ্যালয়ে শেষ মুহুর্তের ধোয়া মুছার কাজ

dewanganj news

করোনার কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা আগামী রোববার থেকেই খুলে দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশের ন্যায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো খুলভে সেদিন। করোনার কারণে দীর্ঘ দিন ছুটির পর ওই থেকেই শুরু হচ্ছে সশরীরে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান। সে কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর শ্রেণিকক্ষ, বসার বেঞ্চ, টেবিল সব কিছু পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে পাঠ উপযোগী করার কাজে ব্যস্থ সময় পার করছেন শিক্ষক, কর্মচারীসহ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টেবিল ধুয়ে মুছে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে রাখছেন তারা।

এ উপজেলার এবতেদায়ীসহ ১৫৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৯৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন এবং মাদ্রাসাসহ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫৯৮জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। কজেল রয়েছে ১০টি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পডুয়া ৬৮ হাজার ৮৬০ জন শিক্ষার্থীসহ কর্মরত ১৫৬৭ শিক্ষক কর্মচারীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সংবাদে ব্যস্থ হয়ে পড়েছেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে পাঠ উপযোগী করার। ১৮ মাস বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে শিক্ষার্থী শিক্ষক উভয়কেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলার খবরে আনন্দের প্রহর গুনছেন তারা। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি ও অফিসকক্ষ ময়লা জমে একাকার হয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ হয়েছে আবাদী জমি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলার সংবাদে সব কিছু ঠিকঠাক করা হচ্ছে পূর্বের মতো।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটির শ্রেণি কক্ষ, টেবিল, বেঞ্চ ধুয়ে মুছে পরিস্কার করছেন বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী অরুন কুমার দাস। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১২ তারিখ থেকে স্কুলের ক্লাশ চলবে। কমলমতী শিক্ষার্থীরা আসবে। শ্রেণি কক্ষ, আসবাবপত্র ধূলা ময়লা জমে একাকার হয়ে গেছে। সে কারণে এগুলো ধুয়ে মুছে পরিস্কার করছি।

- Advertisement -

দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলা সংবাদে আনন্দে উচ্ছ¡সিত শিক্ষার্থীরা। তারা অপেক্ষার প্রহন গুনছে সেই দিনটির-যে দিন বই খাতা হাতে পাঠশালে আসবে। দেওয়ানগঞ্জ মডেল প্রাথমিক স্কুলের এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে আসা ৫ম শ্রেণির ক শাখার শিক্ষার্থী ফাহমিদ আহমেদ, আফসানা আক্তার লাাবণ্য, অদিতি রায়ের সাথে কথা বলার সময় বিদ্যালয় খুলার সংবাদে তাদের চোখে মুখে আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেছে। তারা বলে, বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময় তাদের অভিভাবকেরা বাড়ীর বাইরে বের হতে দিতো না। বিদ্যালয় বন্ধ ও করোনার কারণে বাড়ীতে আবদ্ধ থাকতে হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা স্কুলে আসবে, লেখাপড়া করবে, খেলবে; এ আনন্দে আত্মহারা তারা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় অলস সময় পার করতে হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদেরও পড়ালেখার ক্ষতি হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল প্রতিষ্ঠান খুলবে এটা খুশির সংবাদ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেরউল্লাহ বলেন, উপজেলা ৯৯ ভাগ শিক্ষককে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া ১৯ দফা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে একটি তাপ পরিমাপক যন্ত্র বসানো হবে। এ ছাড়া সাবান হেন্ডসেনিটাইজার থাকবে। শিক্ষার্থী হাত জীবানু মুক্ত করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলার সংবাদে উপজেলা খুশির আমেজ বিরাজ করছে। ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করা হবে।

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -