ছাত্রলীগের ১৯ পদ শূন্য ঘোষণা, বহিষ্কার উঠল জারিন দিয়ার

ছাত্রলীগের ১৯ পদ শূন্য

মঙ্গলবার গভীর রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা এসেছে।

- Advertisement -

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হল। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই পূর্বক উক্ত পদসমূহ পূরণ করা হবে।

তবে পদ হারানো এই ১৯ জনের নাম প্রকাশ করেনি ছাত্রলীগ।

এদিকে ছাত্রলীগের পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে মধুর ক্যান্টিনে মারামারির ঘটনায় সাময়িকভাবে বহিষ্কার হওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য জারিন দিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

কাউন্সিলের এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে তা পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, বিবাহিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ নানা অভিযোগবিদ্ধ অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে অনেক ত্যাগী নেতাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

গত ১৩ মে হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতা শ্রাবণী দিশাকে নিয়ে যাচ্ছেন সহকর্মীরা

তাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে দুদিন পর ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত ১৭ জনের নাম প্রকাশ করেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সেদিন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছিলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, বিবাহিত, অছাত্র, মামলার আসামিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ১৭ জনের নাম আমরা প্রাথমিকভাবে পেয়েছি।

“তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষ অভিযোগ প্রমাণিত হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের মাধ্যমে পদ শূন্য ঘোষণা করে বঞ্চিতদের স্থান করে দেব।”

ওই ১৭ জন হলেন- সহ-সভাপতি তানজিল ভুইয়া তানভীর, সুরঞ্জন ঘোষ, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, আতিকুর রহমান খান, বরকত হাওলাদার, শাহরিয়ার বিদ্যুৎ, মাহমুদুল হাসান তুষার, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তৌফিকুল হাসান সাগর, সাদিক খান,  সোহানী হাসান তিথি, মুনমুন নাহার বৈশাখী, দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব, উপ সম্পাদক রুশি চৌধুরী, আফরিন লাবনী।

এরা পদ হারানো ১৯ জনের মধ্যে আছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি।

ছাত্রলীগ নেতাদের ওই ঘোষণা পর গত ২০ মে রাতে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে দলের চার জ্যেষ্ঠ নেতা ও ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের বৈঠকেও ‘বিতর্কিত’ পদগুলো শূন্য ঘোষণার ঘোষণা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে সেসব পদ পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।

এতদিনেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রোববার রাতে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য চত্বরে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। পরদিন দুপুরে সেখানে এক সংবাদ সম্মেলন তারা বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ চান। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তারা বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেবেন।

এর পরদিনই ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করল ছাত্রলীগ।

এদিকে জারিন দিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “জারিন দিয়া তার কৃতকর্মের জন্য ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে তার উপর আরোপিত সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হল।”

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দিনই তা প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষুব্ধরা মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাদের উপর হামলা হয়, বাঁধে মারামারি।

এ ঘটনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচজনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। একজনকে স্থায়ীভাবে এবং চারজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

সাময়িক বহিষ্কৃতদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য জারিন দিয়া।

 

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -