দেওয়ানগঞ্জে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ২ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রেখে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলায় মোট ৪ টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে গতকাল বুধবার সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। সারাদিন উৎসবমখুর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে আসেন। উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রেই নারী ভোটার সংখ্যা বেশি লক্ষ করা গেছে।  অন্যান্য কেন্দ্রে কোনো সহিংসতার খবর না পাওয়া গেলেও দুই ইউপিতে ২ টি কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।

জানা যায়, গতকাল (৫ জানুয়ারি) নির্বাচনে ভোট প্রদানের বিভিন্ন সামগ্রী হারিয়ে যাওয়া, ব্যালট পেপার ছিনতাই করে সিল মেরে ভোট বাক্সে ঢুকানোসহ তিনবার ভোটকেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করায় হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের আমখাওয়া পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি স্থগিত ঘোষণা করেন। অপর দিকে ডাঙধরা ইউপির ছেংটিমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেটিও একই কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বাকি দুই ইউনিয়নের ২২টি কেন্দ্রে ভোট সফলভাবে সম্পূর্ন হয়েছে।

- Advertisement -

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, চর-আমখাওয়া ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল ইসলাম ১১ হাজার ৭ শত ০৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৯ শত ৭৫ ভোট। হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নে ৮টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী নৌকা প্রতীক নিয়ে মাহমুদা চৌধুরী ৩ হাজার ৬ শত ১০ ভোট, অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ২ শত ২৪ ভোট, আবু হানিফ চশমা প্রতীক ২ হাজার ৯ শত ৩২ ভোট, তাজুল ইসলাম চৌধুরী ৮ শত ভোট পেয়েছেন। ডাঙধরায় নৌকা প্রতীক নিয়ে আজিজুর রহমান ৪ হাজার ৯ শত ৬০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিউর রহমান আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৬ শত ২৪ ভোট, আব্দুস সামাদ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪ শত ৬০ ভোট, শাহ মাসুদ পেয়েছেন ৯ শত ৪১ ভোট পেয়েছেন। আর চুকাইবাড়ী ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম খানকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সেগুলোতে শুধুমাত্র সাধারণ সদস্যেদের ভোট গ্রহণ সম্পূর্ন করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলায় দুই ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। শুধুমাত্র ডাঙধরায় নৌকার প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে চুকাইবাড়ী ইউনিয়নে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ১৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম খান’কে নির্বাচিত ঘোষণা করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

এবিয়য়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, উপজেলার নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। শুধুমাত্র দুইটি কেন্দ্রে অসঙ্গতি পাওয়ায় ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। যার কারণে দুই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদের কাউকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। চর-আমখাওয়া ইউপিতে বেসরকারিভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল ইসলামকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ দ্রুত সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থা করা হবে।

 

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -