নিম্নমানের মালামালে তৈরী হচ্ছে ড্রেন

গাজীপুর প্রতিনিধি,ঢালাই মেশিনে ঢালাই করলে একহাজার টাকা, আর না করলে দুই হাজার টাকা গুনতে হয় ঠিকাদারকে। চুক্তিভিত্তিক দৈনিক এক হাজার টাকার বিনিময়ে ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের বালি ও খোয়ার সংমিশ্রণে তৈরি করছে পৌরসভার ড্রেন। ড্রেন খুড়ার পরে আলাদা মাটিও বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনের স্থায়িত্ব নিয়েও সংশয় রয়েছে জনমনে।

বলছিলাম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সরকারি কর্মচারী মেকানিক সেলিনার নানা অনিয়ম আর ঠিকাদরদের কাজে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার কথা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৩২ পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এনভায়রণমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় শ্রীপুর পৌরসভার বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার ড্রেনের প্রায় ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ খাতে চলছে অর্থলোটপাট আর ঠিকাদারের নিন্মমানের কাজের অনিয়ম। বর্তমানে ঢাকা ময়মনসিংহ হাইওয়ে রাস্তার পাশে ৪.৪কিলোমিটার কাজ চলমান চলছে। আর এই কাজের অনিয়মের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মেকানিক পদে কর্মরত সেলিনা আক্তার।

- Advertisement -

কনস্ট্রাকশন কাজের উপর কিংবা মালামালের গুনগত মানের বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও, নিজে একাই চালিয়ে যাচ্ছে পর্যবেক্ষণ কিংবা তদারকির কাজ।আর চুক্তি ভিত্তিক কাজের জন্য ঠিকাদারের কাছথেকে দৈনিক খুরাকি বাবদ পাচ্ছে একহাজার টাকা এবং ঢালাই সরদারের কাছথেকে নিচ্ছে যাতায়ত ভাড়ার বাবদ ২থেকে ৫শত টাকা পর্যন্ত । কাজের এই অনিয়মের সাথে জড়িত সরকারী কর্মচারীদের টাকার বাণিজ্য আর দুর্নীতির কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোও নিচ্ছে নিন্মমানের ইটা, বালি আর খুয়া দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়ার সুযোগ। ফলে নিজেদের ইচ্ছে মতোই ব্যবহার করা হচ্ছে নিন্মমানের ইটা বালি কিংবা খুয়া। যার বেশির ভাগ অংশই মাটি মিশ্রিত ডাষ্ট। ইটার খোয়া পিকেটিং এক নাম্বারটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে তিন নাম্বার খোয়া। ইটা খোয়া, বালি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন সরবরাহকারি বলেন কম টাকার বিনিময়ে ঠিকাদাররা নিন্মমানের মালামাল ব্যবহার করে। তাছাড়া আমাদের যে ধরনের মাল দিতে বলে আমরা সাধারনত সেধরনেরই মালামাল দিয়ে থাকি। মোটকথা টাকার উপর নির্বর করে গুণগত মানের বিষয়। তাছাড়া তাদের লাভের অংশও বেড়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী ড্রেনের ঢালাই শেষে কিউরিং করার নিয়ম থাকলেও মানা হচ্ছেনা যথাযথ।

সরকারে এই কোটি টাকা প্রকল্পের নানা অনিয়মের তথ্য, সংগ্রহের মাধ্যমে জানা যায়,ড্রেনের কাজে ঢালাইয়ের সময় কিংবা রড বাধার সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ইন্জিনিয়ার কিংবা নির্বাহি প্রকৌশলী না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে অনিয়ম। ফলে নানা অনিয়ম আর দূর্নীতিতে ঠিকাদাররা ড্রেনের কাজে ব্যবহার করছে নিন্মমানের ইটা, বালি ও খুয়া। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শ্রীপুর উপজেলা শাখার মেকানিক পদে কর্মরত সেলিনা আক্তার দৈনিক একহাজার টাকার বিনিময়ে চোখ বন্ধ রেখে দিব্যি কাজের অগ্রগতি চালিয়ে নেয়ার পাশাপাশি মালামালের নিন্মমানকে গুনগতমানে রুপান্তর করত টালি নোটবুক ওয়ার্কসিটে অনুমোদন দিচ্ছেন । যার অর্থ হচ্ছে কাজের ক্ষেত্রে উপযুক্ত মালামাল ব্যবহার সঠিক । সেক্ষেত্রে আবার টাকা না পেলে, গুনগত কাজের মান নিন্মমান বলে বাতিল করা হয় ।
এতে অনেক সময় ঠিকাদারদের কাজের জন্য ডাবল খরচ বহন করতে হয়। এই সমস্ত সমস্যার কারনে ঠিকাদাররা বাধ্য হয় চুক্তির মাধ্যমে টাকা দেয়ার। অনেক সময় টাকার ভাগ নিয়ে কলিকদের পাশাপাশি ঠিকাদারদের সাথেও ঝগড়া হয় মেকানিক সেলিনার। এসব অনিয়মের বিষয়রে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেকানিক সেলিনা আক্তার টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও দায় এড়াতে পারেননি অফিসের কাজে অনিয়ম আর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথা ।

ঢালাইয়ের সরদার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢালাই কাজে লাল বালু ব্যবহার করার কথা থাকলেও তারা লাল বালু ব্যবহার করছেনা, সাংবাদিক আসার খবরে ঠিকাদার লাল বালু এনে জমা করে রেখেছে কিন্তু ব্যবহার করছেনা। মেকানিক সেলিনা আক্তারের টাকা লেনদেনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন সেলিনাকে দৈনিক খুরাকি বাবদ আটশতটাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তার কাজে নিয়োজিত সোলাইমান এর মাধ্যমে দিয়ে থাকে। এবং সে নিজেও আমাকে তা বলেছে। এদিকে ঠিকাদার(এসআর কর্পোরেশন) পক্ষের পরিচয়ে দ্বায়িত্বরত শান বলেন, মহিলা আমাদের কাজে প্রচুর ডিষ্টার্ব করছে। সাইটে এসে নানান ভুল তদারকি করে যেগুলোর সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান নেই তার।

তাছাড়া একজন সরকারি কর্মচারীর আচার ব্যবহার আরও উন্নত হওয়ার প্রয়োজন। সেলিনার ব্যবহারে রিতিমত বিরক্তি আর হতভম্ব হয়েছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান । মেকানিক সেলিনার নানা অনিয়ম আর আর্থিক লেনদেনের লিখিত এবং অলিখিত একাধিক অভিযোগ থাকার পরও দীর্ঘ ৮ বছর যাবত শ্রীপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে মেকানিক পদে চাকরি করে আসছেন। একই উপজেলায় দীর্ঘদিন চাকরি করার ফলে অনিয়মের বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেখানে মেকানিক সেলিনা আকতার সরাসরি আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত থেকে নিজ তহবিলে চালিয়ে যাচ্ছে সাব- কন্টাক্ট এর কাজ। সরকারী চাকরিজীবি হয়েও হরহামেশা চালাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের ঠিকাদারি।
এই ধরনের দূর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে হয়তো আরও অনেক সরকারী কাজের অনিয়ম হতে পারে।

পানি সরবরাহ ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পৌর ড্রেনের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ এবং টাকার বিনিময়ে কাজে অনিয়মে সুজুগ করে দেয়া সহ ৮ কিলোঃড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা অনিয়মের বিষয়ে গাজীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আকতার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত খুয়া, বালি নিন্ম মানের সাথে জরিত রয়েছে অফিস মেকানিক । কোন সুনিদ্রীষ্ট অভিযোগ পেলে উক্ত বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাছাড়া মেকানিক সেলিনার যদি কোন অনিয়ম কিংবা দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -