প্রতি বছর ২ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, দেশে প্রতিবছর ২ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, দেশে প্রতিবছর ২ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। সেক্ষেত্রে দেশের বাইরে জনশক্তি বা পণ্য রপ্তানি করে দারিদ্র্যের হার কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বুধবার নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন: অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছর ধরে সহায়ক ও সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার নেয়ার ফলে সব খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশের সেবা ও উৎপাদনশীল খাতকে বহুমুখিকরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে প্রতি বছর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়া বর্তমানে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দারিদ্র্য কমে যাবে। তবে মূল বিষয় হলো সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ২ শতাংশ হারে দারিদ্র কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

- Advertisement -

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে ২০ লাখ কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম। আমাদের দেশ থেকে ধারাবাহিকভাবে পাঁচ লাখ জনশক্তি বিদেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু গত বছর রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ। সুতরাং গত বছর ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। বাকি পাঁচ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য চিন্তা করছে সরকার। আশা করা যায় খুব তাড়াতাড়ি সমাধান আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. আজিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে গর্ভনর বলেন,  বাংলাদেশ এক সময় ছিল অনুন্নত দেশ। সেই দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে রূপ নিতে যাচ্ছে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের সেবা ও উৎপাদনশীল খাতকে বহুমুখীকরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে করে প্রতি বছর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার ক্রমাগতভাবে কমে আসবে।

ফজলে কবির বলেন, এখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার ৭ শতাংশের উপরে। নিম্ন উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি আমরা। আশা করা যায় খুব তাড়াতাড়ি আমরা আমরা উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়াতে পারবো।

গভর্নর বলেন, বর্তমানে রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। তবে উৎপাদন খাতে গতি আসলে উৎপাদন বাড়বে। সেই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণও বাড়বে। তখন আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সামাঞ্জ্যস্যতা চলে আসবে।

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.