ভরা মৌসুমেও দাম কমেনি সবজির!

Vegetable

শীতের আমেজ চারদিকে বিরাজ করছে। প্রতিবছর শীতের প্রথম দিকে বাজারে আসতে থাকে কাঁচা শাঁক সবজি। ক্রেতারা মুখিয়ে থাকে এই কাঁচা শাঁক সবজি জন্য। কারণ সবুজ  এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। দামও নাগালের মধ্যে থাকায় সব শ্রেণীর ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ কাঁচা শাঁক সবজি। প্রায় দুই মাস আগে বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতের সবজি। কিন্তু এবছর যেন দাম কমার কোন নামই নেই। শীতকালীন এসব সবজির দাম না কমায় অন্য সবজিও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। শীতের প্রথম দিকে বেশী দামে বিক্রি করা হলেও এখন ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও দাম খুব একটা কমেনি। প্রচুর সরবরাহ থাকলেও দাম না কমায় সাধারণ ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে বিভিন্ন প্রকার সবজিতে সয়লাভ হয়ে আছে। বিক্রেতারা সবজির পসরা নিয়ে বসে আছে। কিছু কিছু ক্রেতা সবজি কিনছেন। তবে পরিমানের থেকে কিছুটা কম। কারণ অধিকাংশ সবজি গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। অনেকের সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নেই। এরমধ্যে ফুলকপি ৮০-৯০ টাকা কেজি, টমেটো ১০০-১২০ টাকা কেজি, শিমে ৪৫-৫০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা কেজি, পটোল ৩৫-৪০, বরবটি ৪০-৫০, করলা ৬০-৭০, চিচিঙ্গা ৫০-৫৫, কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০-৪০ টাকা, প্রতি আটি মুলাশাক ৮-১৫ টাকা আঁটি, লালশাক ১০-১৫ ও পালংশাক ১৫-২০ টাকায়, আলু ২৫ টাকা কেজি, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজি, ইন্ডিয়ান ও মায়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০-৮৫ টাকা, (গোল) বেগুন ৫০-৫৫ টাকা, (লম্বা) বেগুন ৪৫-৫০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

- Advertisement -

এছাড়াও বাজারে ভোজ্যতেলের প্রতি লিটার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা, প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫, জিল বাংলা সুগার মিলের চিনি ৯০-১০০ টাকা, আটা ৩৫ টাকা, শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ২৩০ টাকা, হলুদের কেজি ১৬০-২২০ টাকা, ইন্ডিয়ান ডালে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ এবং দেশি ডাল ১১০ টাকা এবং রসুনের কেজি ৮০ থেকে ১৩০ টাকায়।

দেওয়ানগঞ্জ পৌরবাজারে আসা ক্রেতা সালাউদ্দিন বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ। বাজারের দাম যে পরিমাণ বাড়ছে সেই অনুযায়ী আমাদের পরিমাণমত বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না। বাজারে শীতের সবজীতে সয়লাভ হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী দাম কমেনি। বরং কিছু কিছুর দাম আরও বেড়ে গেছে। এখন দেখছি আমাদের চাহিদা মেটানো দায় হয়ে পড়েছে।

এনজিও কর্মী আব্দুর রহমান বলেন, পণ্যের যে পরিমাণ দাম হয়েছে। এই দামে আমাদের পরিমাণ অনুযায়ী বাজার করলে বেতনের সম্পূর্ণ টাকায় লেগে যাবে। তাই অনেক কিছু কিনতে মনে চাইলেও টাকার কথা চিন্তা করে কিনতে পারি না। প্রতিদিন বিভিন্ন জিনিস পত্রের দাম বেড়েই চলছে। কিন্তু আমাদের বেতন তো আর বাড়ছে না। যার কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়ছি। আমরা এমন  এক শ্রেণীর মানুষ যারা কারো কাছে হাতও পাততে পাচ্ছে না আবার সাধ্যও মেটাতে পাচ্ছেন না।

দেওয়ানগঞ্জ বাজার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যাবসায়ী ফারুক আহম্মেদ বলেন, শীতের সবজির দাম বর্তমানে কিছুটা বেশী হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই দাম কমতে শুরু করবে। কৃষকরা আগাম সবজি তুলে বেশী দামে বিক্রি করছে। অনেক কৃষকের সবজি এখনো বাজারে আসেনি। তাদের সবজি আসা শুরু হলেই বাজার কিছুটা কমে আসবে। আর শীতের সবজি ছাড়া অন্যান্য পণ্য আমাদের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করতে হয়। তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় আমাদের পরিবহণ খরচ বেড়ে গেছে। আবার অনেকের কাছ থেকে আমাদের বেশী দামে কিনতে হচ্ছে যার কারণেই আমাদের বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন্নাহার শেফা বলেন, বিভিন্ন সময় সরকারের নির্দেশনা থাকলে আমরা বাজার মনিটরিং করে থাকি। এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সরকারের তেমন কোন নির্দেশনা আমরা পায়নি। প্রসাশনের পক্ষ থেকে বিক্রেতাদের পণ্যের মূল্য লিখে দোকানে টানিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। আর দাম বৃদ্ধির কারণে এখনো কেউ আমাদের অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তার ভিত্তিতে কিছুটা ব্যাবস্থা নেওয়া যেত।

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -