শেরপুরে কৃষাণীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ইজারা নেয়া জমিতে প্রতিপক্ষকে ধান রোপণে বাধা দেওয়ায় এক অতিদরিদ্র কৃষাণীকে বিবস্ত্র করে পিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। এ সময় তাকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তার পাশে নিয়ে একটি জিগার গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউপির মধ্য পিরিচপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

২১ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টায় এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে শ্রীবরদী থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযুক্তরা হলেন- রমজান আলী (৩৭), হারুন মিয়া (৩২), মুসা মিয়া (৪৫), খোকন মিয়া (২৫), রুবেল মিয়া (২২), ইসমেল (৬০), আব্দুর রশিদ (৩৫), মজনু মিয়া (৫০)। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি উপজেলার পিরিজপুর গ্রামে।

- Advertisement -

স্থানীয় ইদ্রিস আলী (৫০), তোতা মৌলভী (৬০), শহিজল মিয়া (৫৫), খসরু মিয়া (৩০), শহিজল (৩০), হাইবর রহমান (৩২) ও মোছা. মর্জিনা বেগম (৩২) বলেন, দারিদ্রতার কারণে ওই নারীর স্বামী ও ছেলে ঢাকায় দিন মজুরির কাজ করে সংসার চালায়। অনেক কষ্টে প্রতিবেশী মজিবর রহমানের ছেলে জাকির হোসেনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় ৩০ শতাংশ জমি ইজারা নেন ভুক্তভোগী কৃষাণী। প্রায় পাঁচ বছর যাবত ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন তিনি। বেশ কয়েকদিন আগে প্রতিপক্ষরা ইজারার দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করা হবে এমন মিথ্যা আশ্বাসে ওই নারীর কাছে থাকা ইজারার চুক্তিপত্র দলিল হাতিয়ে নেয়। গত ১৯ আগস্ট সকালে আরেক প্রতিবেশী রমজান আলী ও তার ছোট ভাই হারুন মিয়াসহ ১০-১২ জন ওই জমিতে গিয়ে জোরপূর্বক চলতি আমন ধানের চারা রোপণ করে।

এ সময় তিনি (কৃষাণী) বাধা দিলে রমজান আলী তাকে ধান ক্ষেতেই শারীরিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে বিবস্ত্র করে। পরে ধান ক্ষেত থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তার পাশে এনে রশি দিয়ে একটি জিগার গাছের সাথে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকে। দেড় ঘণ্টা পর কাকিলাকুড়া ইউপির সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সাহিদা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে তার শরীরের বাঁধন খুলে দেন।

ভুক্তভোগী কৃষাণী বেদেনা বেগম বলেন, আমার ইজারা নেয়া জমিতে প্রতিপক্ষরা ধান রোপণ করতে গেলে প্রতিবাদ করি। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে রমজান আলী ও হারুণ মিয়া আমাকে গালাগালি করে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে কিল, ঘুঁষি ও লাথি মারে। আর মোসা মিয়া নামে একজন আমার কোমড়ে স্বজোরে লাথি মেরে কাঁদা মাটিতে ফেলে দেয়।

পরে মজনু মিয়া নামে একজন আমার পড়নের ম্যাক্সি ধরে হেচকা টান দিয়ে আমাকে বিবস্ত্র করে ফেলে। এ সময় তারা জোরপূর্বক আমাকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ক্ষেত থেকে তুলে আমার বাড়ির সামনে নিয়ে জিগার গাছের সাথে আমার দুই হাত লাইলনের রশি দিয়ে বেঁধে কিল, ঘুঁষি ও লাথি মারতে থাকে। এ ঘটনায় আমার শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক নীলা হয়ে ফোলে যায়। এলাকার মানুষ এ ঘটনার কিছু অংশ ভিডিও করেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার বিচার শালিসী ডাকলে বা মামলা মোকদ্দমা করলে আমাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এছাড়া আমার ছেলে ও স্বামীকে কায়দা মত পেলে জীবনের তরে পঙ্গু করে দিবে বলেও হুমকি দেয়।

অভিযুক্ত রমজান আলী নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি আদালত থেকে ডিক্রি পেয়েছি। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) ওই জমিতে ধান রোপণ করতে গেলে সে বাধা দেয়। পরে আমরা তাকে সসম্মানে সেখান থেকে সরিয়ে দেই।

এ ঘটনায় শ্রীবরদী থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীবরদী থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) আবুল হাশেম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত দিন
- Advertisement -